আমরা দেশ-বিদেশের পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল দেখতে কতকিছুই না করি। কিন্তু কোনও ঐতিহাসিক শহরে যদি
একসাথে এই স্বাদ পাওয়া যায়! এমনই শহর কলকাতা। অনেকের কাছে আবার আবেগের ‘কল্লোলিনী
তিলোত্তমা’। পরাধীন ভারতের রাজধানী।

কলকাতার অপার সৌন্দর্য যেন চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। মন কেমন করা ভাস্কর্য, স্থাপত্যর নমুনা চারিপাশে
রয়েছে ছড়িয়ে। এর সঙ্গেই আছে বাংলার সংস্কৃতি, আর বন্ধুবৎসল আপন করে নেওয়া মানুষ। প্যারিস যেমন শিল্প আর শিল্পীর শহর, কলকাতা তেমনই কবিতার শহর, সঙ্গীতের শহর, নাটকের শহর। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শহর, পথের পাঁচালির শহর। এক পাগল করা ঐশ্বর্য নিয়ে কল্লোলিনী কলকাতা তাই হাতছানি দেয়।

শহরটা ভালভাবে ঘুরে দেখতে কম করে তিন চার দিন লাগবে। আবার এই শহর থেকে আপনি খুব সহজেই কয়েক ঘন্টার মধ্যে দীঘায় গিয়ে সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে গলা ছেড়ে গেয়ে ঊঠতে পারেন- চল রিনা ক্যাসুরিনার/ ছায়া গায়ে মেখে এঁকে বেঁকে…। সকালে বেরিয়ে ফিরতে পারেন ওই দিনেই। আবার এক রাত কাটিয়েও আসতে পারেন। কিংবা গোসাবা হয়ে সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সঙ্গে দেখা করেও আসতে পারেন। দু’একটা দিন মন্দ লাগবে না। অথবা, যেতে পারেন গঙ্গাসাগরে। সেখানে কপিলমুনির আশ্রম। এক ফাঁকে বকখালির সৈকতেও ঘুরে আসতে পারেন। এভাবেই কলকাতার বুকে গতির ডানা মেলে শহরটাকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারেন।

তাহলে আর কেন, বেরিয়ে পড়ুন। কলকাতাকে তিন ভাগে ভাগ করে নিন। উত্তর, দক্ষিণ ও সল্টলেক।
ভাড়া করে নিন একটা গাড়ি। ছোট গাড়ি নিলে ভাড়া ৭ টাকা, আর বড় গাড়ি নিলে ৯ টাকা কিলোমিটার।
প্রথমে দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দির দর্শন করে নিন। মন্দির খোলা থাকে সকাল ৮টা- বেলা ১২টা ও বিকেল
৪টে থেকে রাত ৮টা। ইচ্ছা করলে স্নান সেরে পুজো দিতে পারেন। আপনি যে ঘাটে স্নান করবেন, শ্রী শ্রী
রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবও ঐ ঘাটেই স্নান করতেন। কথিত আছে স্বপ্ন পেয়ে রাণী রাসমনি মন্দিরের প্রতিষ্ঠা
করেছিলেন। তিনি জানবাজার থেকে দক্ষিণেশ্বরে গেলে ঐ ঘাটেই স্নান সারতেন। পুজো দিয়ে পরমহংসদেবের
ঘর দেখুন। সেখানে সযত্নে রক্ষিত আছে তাঁর ব্যবহার সামগ্রী। 

দেখুন পঞ্ছবটি, নাটমন্দির। মন্দির চত্বর থেকে বাইরে এলে পাবেন অসংখ্য খাবারের দোকান। সেরে নিন প্রাতরাশ। এরপর কাশীপুর উদ্যানবাটিতে চলে আসুন। ঠাকুর পরমহংসদেব শেষ জীবনে ওখানেই দেহত্যাগ করার আগে ১জানুয়ারি কল্পতরু হয়েছিলেন।

এরপর শোভাবাজার রাজবাড়ি দর্শন করুন। ওখান থেকে দু’ কিলোমিটার দূরেই সিমলা রোড, স্বামী
বিবেকানন্দর বাড়ি। দেখে নিন নরেনের ব্যাবহার করা নানা সামগ্রীর সংগ্রহশালা। সামনেই মানিকতলার কাছে
জৈনদের বিখ্যাত পরেশনাথ মন্দির দেখুন। এতক্ষণ ঘুরে হয়ত আপনি ক্লান্ত, তবে ওখানেই আশেপাশে অনেক
ভাল রেস্তোরা পাবেন। একটু বিশ্রাম নিয়ে ওখানেই কোথাও দুপুরের খাওয়া দাওয়া সারুন।

এদেশের শুধু নয়, এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি দেখে নিতে এবার
আসুন জোড়াসাঁকোর ঠাকুবাড়িতে। কবিগুরুর জন্মস্থান। এখানেই ১৯৬২ সালে কবির জন্মশতবর্ষে স্থাপন হয়
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যাল্যয়। তাঁর শৈশব, বেড়ে ওঠা, ঐ বাড়িতেই। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। কিংবদন্তী
কবির সংগ্রহশালার সবকিছু দেখতে গিয়ে হয়ত বা আপনি কয়েক মুহূর্তের জন্য উদাস হয়ে গুনগুন করে
গেয়ে উঠবেন – ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাট-এ/ বইব না মোর খেয়া তরী এই ঘাট-এ/
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা, বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাট-এ/তখন আমায় নাইবা মনে
রাখলে/ তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে…’।

বেলা বাড়ছে। এবার উত্তর কলকাতার পাট চোকানোর পালা। তবে যাবার আগে দেখে নিন কবিগুরুর
বাড়ির অদূরে ৪৬, মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের মারবেল প্যালেস। কবিগুরুর জন্মর ২৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৩৫
সালে বাঙ্গালী শিল্পপতি রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক ত্রিতল মারবেল প্যালেস নির্মাণ করেন। পরিবারের সদস্যরা
থাকতেন, সেই ট্রাডিশন এখনও চলছে। নিওক্ল্যাসিকাল স্টাইলের শিল্প সংগ্রহ। করেন্থিয়ান। লম্বা বারান্দা,
বিশাল ঠাকুর দালান, পরিবারের সদস্যরা পুজো-আর্চা করেন। লন সহ বাগান। রক গার্ডেন। ছোট দিঘীর
পাশে ছোট একটা চিড়িয়াখানা। চোখ জোড়ানো পশ্চিমী স্থাপত্য আর ভিক্টোরিয়া যুগের আসবাবপত্রর সঙ্গে
দেখে নিন ইউরোপিয়ান ও ভারতীয় পেন্টারদের অসাধারণ সব পেন্টিং।

এবার ধর্মতলার দিকে এগোন। বিবাদী বাগ অঞ্চল দিয়ে যেতে যেতে এক ঝলক মেটকাফে হল, বিধানসভা
ভবন, টাউন হল-এ চোখ বুলিয়ে নিন। উল্টো দিকে আকাশবাণী ভবন-এর দিকে চোখ পড়তেই মহালয়ার
ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর ঐতিহাসিক চন্ডীপাঠ হঠাৎই কানে বেজে উঠতে পারে। আকাশবাণীর গায়ে লাগানো
ইডেন গার্ডেন। গাড়ি পার্কিং করে রেজিস্টারে সই সাবুদ সেরে মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখে নিন খ্যাতকীর্তিদের ছবি।
ঢুকে পড়ুন সংগ্রহশালায়। ক্রিকেটারদের নানা স্মারক, যা আজ শুধুই ইতিহাস, শুধুই স্মৃতি। এরপর দোতলায়
উঠে গ্যলারিতে বসে ক্রিকেটের নন্দনকাননকে দু’চোখ ভরে উপভোগ করুন। ইডেন মানেই আপনি ময়দান
এলাকায় আছেন। উল্টো দিকের ফুটপাথ ধরে দু মিনিট এগোলেই মোহনবাগান ক্লাব, আর ওপারে ঈস্টবেঙ্গল।
শতোধা প্রাচীন দুই ক্লাবই ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে বহু কীর্তির সাক্ষী। পাশাপাশি মহমেডান স্পোর্টিং সহ
কলকাতা ময়দানের অজস্র ক্লাব।

সন্ধ্যে হচ্ছে। ইডেন থেকে বেরিয়ে আপনি ইচ্ছা করলেই যেতে পারেন প্রিন্সেপ ঘাট। তার চেয়ে বরং গাড়িতে
পাঁচ –সাত মিনিটের দূরত্বের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল-এ একবার ঢুঁ মারুন। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে সামান্য
২০ টাকার টিকিট কেটে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড দেখে নিন। ইতিহাস নিয়ে আলোর খেলা দেখে দু মিনিটের
দূরত্বে বিড়লা তারামন্ডল-এ ঘুরে যান। সময় নেই। ক্লান্তি আছে। আর ইচ্ছা করছে না? ক্লান্তি ক্ষমা করতে
পাশেই ক্যাথিড্রাল চার্চ, আছেন প্রভু যীশু। তার পাশে একাডেমি অফ ফাইন আর্টসে নাটক একদিকে, আর
একদিকে ছবির প্রর্দশনীর গ্যালারি। আহা, কী সহবস্থান। তারপাশেই রবীন্দ্রসদন। সব একেবারে গায়ে গায়ে
লাগানো। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়।

দ্বিতীয় দিন ভারী প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। দিন শুরু হোক তারাতলার নেচার পার্ক দিয়ে। চিন্তা
করবেন না। সকাল ৮টায় নেচার পার্ক খোলে। ফাঁকায় ফাঁকায় খাস কলকাতার বুকে প্রকৃতিকে প্রাণ ভরে
উপভোগ করুন। ওখান থেকে খুব কাছেই বেলভেডিয়ার রোডের উপর ঐতিহ্যের জাতীয় গ্রন্থাগার। কয়েক
বিঘা জমি নিয়ে বিদ্যার আঁধার হয়ে মাথা উঁচু করে অধিষ্ঠান করছে। ভেতরে গিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন।
প্রধান হেরিটেজ বিল্ডিংটি এখন বন্ধ। কয়েক পা গেলেই নতুন বাড়ি। ‘ডে’ পাস নিয়ে ‘রিডিং রুম’ ঘুরে
দেখতে পারেন। জাতীয় গ্রন্থাগারের ঠিক বিপরীত দিকে আলিপুর চিড়িয়াখানা। হাতে সময় থাকলে
চিড়িয়াখানার টিকিট কাটুন, নচেৎ নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে এক কিমি দূরে অভয়ারন্যে চলুন। 

১৫ একর জমিতে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, ডুমুর, সফেদা ইত্যাদির বিরাট বিরাট গাছের সমাহার। আর
এই প্রকৃতির কোলে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি, প্যাঁচা আর বিচিত্র সব মাকুড়শা। শহরের
কোলাহল থেকে বেরিয়ে এসে এখানে কিছু সময় কাটান। দেখুন- ড্রঙ্গো, এশিয়ান কোয়েল, শিকারা, হাউস
ক্রো, গ্রিন বি ইটর, অলিও ব্যাকড সানবার্ড পাখিদের। আছে একশোরও বেশি পাখি।দেখতে থাকুন- হরতন,
লোপামুদ্রা, হরিণছড়া, চিতা, পায়রাকলির মত পঞ্চাশ রকমের প্রজাপতি অথবা বিচিত্র সব মাকড়শা। ১৯৮২
সালে রাজ্য সরকারের তৈরি এই অভয়ারণ্য পরে নামকরন হয় বিখ্যাত ভাস্কর চিন্তামনি করের নামে।

এবার বেলুড় মঠ। কলকাতা থেকে ঘন্টা খানেকের পথ। অনেক কৃচ্ছসাধনে স্বামিজীর রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা
হয়েছিল সব ধর্মের মানুষের জন্য। পৃথিবী জুড়ে অজস্র শাখা। হুগলী জেলার গঙ্গার তীরে স্বামিজীদের পুরনো
বাড়ি। ঐ বাড়িতেই ১৮৯৯-এর জানুয়ারি পর্যন্ত ভজন, সাধন হয়েছে। দেখুন, স্বামিজীর ঘর। তাঁর বইপত্র,
তানপুরা ইত্যাদি। ঘরের বাইরে যে আমগাছটি, তার ছায়ায় বসে তিনি ভক্ত এবং অতিথিদের সঙ্গে দেখা
করতেন। ঐ ঘরেই ১৯০২ সালের ৪ জুলাই তাঁর চিরসমাধি হয়। পাশেই পরমহংসদেব ও মা সারদার মন্দির।
আর বর্তমানের কারুকার্য খচিত প্রধান মঠ স্থাপন হবার পর, ১৯৩৮ সালের ১৪ জানুয়ারি স্বামিজীর নামে
উৎসর্গ করা হয়। ফেরার পথে হাওড়া ব্রিজের উপর গাড়ি দাঁড় করান। রাতের অপরূপ সৌন্দর্যকে দু চোখ
ভরে উপভোগ করুন।

তৃতীয় দিন সকালে স্নান ও প্রাতরাশ সেরে কালীঘাট মন্দির যান। প্রতিমা দর্শন ছাড়া পুজোও দিতে পারেন।
তবে পান্ডাদের এড়িয়ে চলতে পারলে ভাল। দক্ষিণেশ্বরে এই ঝামেলা নেই। এরপর গুরুসদয় দত্ত রোডে বিড়লা
টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে। ছোটদের জ্ঞান বিজ্ঞানের খনি। উল্টোপারেই ইসকন। রাধা-কৃষ্ণকে পাবেন।
ওদের ওখানেই দুপুরের আহার করুন। সামান্য টাকায় উপাদেয় নিরামিষ প্রসাদ ভোগ। এরপর সায়েন্স সিটি।
ওখানে খাবারের মাত্রা ছাড়া দাম। বাইরে থেকে খাবার নিয়ে খাবার পর কিছুই ওখানে ফেলতে পারবেন না।
সায়েন্স সিটিতে রোপওয়ে চড়ুন। ট্রয় ট্রেন চড়ে প্রায় ৪৫মিনিট ধরে পুরো সায়েন্স সিটি ঘুরুন। আমরা মাথা
উঁচু করে আকাশ দেখি। এখানে অডিটোরিয়ামে বসুন। আর আকাশ দেখার সময় ওই সিটটাই আপনাকে
শুইয়ে দেবে। এমনই ব্যাবস্থা। ৬০টি অসাধারণ সব রাইড আছে। প্রতি রাইডের জন্য মাথা পিছু টিকিট। ।
তবে সারাদিনেও সবকিছু দেখে শেষ হবে না, তাই অল্পতে সাধ মেটে না।

শেষ দিন জাদুঘর দিয়ে শুরু করে ওখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে সল্টলেকে নিক্কো পার্কে চলুন। সকাল পৌনে
এগারটা থেকে পৌনে আটটা পার্ক খোলা থাকে। মাথা পিছু ১৫০ টাকা টিকিট। গোটা পাঁচেক রাইড ফ্রি।
মোট ৩৫টি রাইড। ছোটদের জন্য খুবই মজার জায়গা। ওখান থেকে ৬ কিমি অ্যাকুইটিকা। জলে নামুন
লাইফ গার্ড নিয়ে। জলে গলা ডুবিয়ে বসে থাকুন বা খুনসুটি করতেই থাকুন। এরপর চলে আসুন ইকো
পার্কে। ৪৭৫ একর জমির উপর ভারতের বৃহত্তম পার্ক। অসাধারন সব স্ট্যাচু। এবার চলে আসুন
রাজারহাটের অ্যাক্সিস মল-এ স্নো পার্কে। ৪৯৯ স্কোয়ার ফুটের বরফের পাহাড়ে যাবেন?। ৬০০ টাকা মাথা
পিছু টিকিট। বরফের গুহায় ঢুকতে যাবতীয় পোষাক দেবে কর্তপক্ষ। ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। সুতরাং
ঐ বিশেষ পোষাক ছাড়া আপনি নামতেই পারবেন না, উপভোগ তো দূরের কথা।

আর একটা কথা। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ফোর্ট উইলিয়াম নিয়ে। সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয়
জায়গা। ১৬৯৬ সালে স্থাপন।হয়। সব থেকে বড় কথা ১৭৫৭ সালে এই দুর্গ ইংরেজ সেনারা আক্রমণ করার
পর নবাব সিরাজৌদোল্লার কাছে পুরাজিত হয়। বর্তমানে ফোর্ট উইলিয়াম দেশের সেনা পূর্বঞ্চলীয় সদর দপ্তর।
১০,০০০ জওয়ান থাকেন। ফোর্টের ভেতরেই স্কুল, খেলার মাঠ, সুইমিং পুল, বাজার, ডাকঘর, ব্যাঙ্ক, সিনেমা
হল, শপিং মল- সব আছে। সকাল ৯টা-৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে সাধারণের দর্শনের জন্য কর্তপক্ষর
থেকে আগাম অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। সর্বসাধারণের কাছে ওই অনুমতি জোগাড় করাটাই বিড়ালের
গলায় ঘন্টি বাঁধার সামিল। অনেকেই পারেন না, কিন্তু কেই কেউ তো পারেন।আমার মনে হয়েছে সবকিছুই
জেনে রাখা ভাল।

হয়ত, ফোর্ট দেখার সুযোগ হল, অথবা দেখা হল না। মন খারাপ করবেন না। কলকাতার আর যা আছে
তাই বা কম কীসের? বরং, ঐতিহাসিক কল্লোলিনী কলকাতার বুকে এভাবেই নিজেকে সঁপে দিন। একে বারে
না পারলে বারেবারে।আরো বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান আছে দেখার কোলকাতাতে, যেমন ঢাকুরিয়া লেক, বিড়লা  মন্দির, নাখোদা মসজিদ, শোভাবাজার রাজবাড়ী, সাবর্ণ সংগ্রহশালা, প্রিন্সেপ ঘাট, মিলেনিয়াম পার্ক, টাউন হল….. ইত্যাদি। পারলে ঘুরে আসুন পাশেই হাওড়া জেলায় অবস্থিত “বোটানিক্যাল গার্ডেন” এ! ১৭৮৭ সালে রবার্ট কিড তৈরী করেন, অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে! লক ডাউন ও করোনার করুণা কেটে গেলে বেরিয়ে পড়ুন আপনার নিজের শহরকে আবার নতুন করে চিনতে! যে ” শহর জানে আপনার প্রথম সবকিছু !”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here