বেশ কয়েক বছর আগেকার কথা। সবে লেখা লিখি শুরু করেছি। তখনও সেভাবে বন্ধনে জড়িয়ে পড়িনি। খোলামেলা জীবন। যখন যেখানে ইচ্ছা বন্ধু-বান্ধব মিলে বেরিয়ে পড়ি। চুটিয়ে আড্ডা মারি। চাকরি বাকরি না পাওয়ায় বাড়িতে মাঝে মধ্যেই অশান্তি হয়। চাকরির পরীক্ষায় আমার বরাবরের ভীতি। তাই আমার চাকরি হয় না। তখন থেকেই আমার মনে হয়েছিল, দশটা-পাঁচটা চাকরি আমার দ্বারা হবে না। বাড়ি আমার কাছে তুচ্ছ। যা করছি মনের আনন্দে করছি। খুব কম বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর দিদি অভিভাবক। ফলে অবাধ স্বাধীনতা। একদিন আমরা ছ’জন কাছে পিঠে তিন চারদিনের জন্য ঘুরে আসার প্ল্যান করলাম। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায়? নানা মুনির নানা মত। আমার পকেটে তখন হাজার দেড়েক টাকা। বাড়িতে পাঁচশোর মত দিলেও হাতে থাকবে হাজার। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে এখনকার হিসেবে  ওই টাকাটা অনেক। ঠিক হল, ফ্রেজারগঞ্জ(Fraserganj) যাব। বকখালি(Bakkhali) পেরিয়ে যেতে হয়। দুটো জায়গাই তখন সবে গড়ে উঠছে। সেই সময় ট্র্যাভেল এজেন্সি এখনকার মতো পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠেনি। গাড়িও সেভাবে ভাড়া পাওয়া যেত না। তবুও আমরা একটা গাড়ি পেয়ে গেলাম। যা ৬ জনের জন্য বেশ বড়। অথচ, আমাকে যখন টালিগঞ্জ থেকে এসে প্রিন্স আনোয়ার শ”র মোড় থেকে তুলল, তখনই বোতলের ভীড়ে গাড়িতে পা রাখতেই পারছিলাম না। তবে সেবার ফ্রেজারগঞ্জ ভ্রমণে শুধু বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততার খাতিরে গাড়িতে কারা ছিল, তাদের নাম বলছি না। নাম যেগুলো বলবো সেগুলো নেহাতি গল্পের খাতিরে তৈরি! বরং এই ফাঁকে ফ্রেজারগঞ্জ(Fraserganj) নিয়ে কিছু কথা বলে নিই।

Friends are for ever.....
যে কোনও পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরেই আধা সত্য, আধা মিথ্যা মেশানো কিছু গল্প চালু থাকে। ফ্রেজারগঞ্জও(Fraserganj) এর ব্যতিক্রম নয়। এই গল্পের নায়কের নাম স্যার অ্যানড্রু ফ্রেজার। লর্ড কার্জন যখন বাংলাকে ভাগ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন, তখন তিনি বাংলার ছোটলাট ছিলেন। অত্যাচারি হিসাবে ফ্রেজারের বেশ বদনাম ছিল। বিপ্লবীরা তাঁকে বারদুয়েক হত্যা করার চেষ্টাও করেছিলেন। তাঁর নামেই ‘দোখনো’ দেশের একটি গ্রামের এমন একটা সাহেবি নামকরণ হয়েছে। কিন্তু কেমন করে?
একবার এই জলপথ দিয়ে কলকাতায় যাবার সময় ফ্রেজার সাহেবের জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অর্ধমৃত অবস্থায় ভাসতে ভাসতে সাহেব এসে পৌঁছন এই গ্রামে। তখন এক গ্রাম্য কিশোরী সাহেবের প্রাণ রক্ষা করে। তারপর যা হয় – পরিবার, জাত্যাভিমান, লাটসাহেবি সব ভুলে ফ্রেজারবাবু এই বাদাবনের দেশেই ডেরা বাঁধলেন। বঙ্গোপসাগরের জল থেকে বাঁচলেও প্রেমের সাগরে তলিয়ে গেলেন তিনি। এমন রসালো খবর নিয়ে কলকাতার ইংরেজ মহলে ঢি ঢি পড়তে দেরি হল না। যথাসময়ে ফ্রেজারগিন্নির কানেও খবর গিয়ে পৌঁছল। দেখা গেল অত্যাচারি হিসাবে তিনি ফ্রেজারের একেবারে যোগ্য সহধর্মিণী। স্বামীর প্রেম ঘোচানোর জন্য সেই খান্ডারনি মহিলা কী করলেন কে জানে। কেউ বলে খুন, কেউ বলে অপহরণ। মোট কথা সেই বাঙালি মেয়েটা একদিন কর্পূরের মতো উবে গেল। রয়ে গেল শুধু ফ্রেজারগঞ্জ নাম আর সমুদ্রের তীরে সাহেবের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। ওফ! কি রোমান্টিক জায়গা মাইরি। সমুদ্র, অবৈধ প্রেম, গুপ্তহত্যা সব আছে। 
যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। ঠিক হল, পরদিন ভোরেই বেরনো হবে সেই প্রাসাদের খোঁজে। শাম্ব সবে কলেজ শেষ করেছে। বলল, ‘দাদা, আমাকে একটা দোখনো মেয়ে খুঁজে দিতে হবে। আমি ফ্রেজার সাহেব হব’।  পরদিন আমি আর সোমক ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বাকিদের তখনও খোঁয়াবি কাটেনি। অগত্যা আমরা দুজনেই বেরোলাম। দিনটা ছিল মেঘলা। হু হু হাওয়ায় তখনই বেশ কাঁপুনি লাগছে। মেঘের কম্বল মুড়ি দিয়ে সমুদ্রটাও চুপ মেরে আছে। ফ্রেজারগঞ্জ এক আজব জায়গা। দেশজুড়ে বালুকাবেলা অনেক দেখেছি, কিন্তু এমন শুঁটকিবেলা কোথাও দেখিনি। যারা ফ্রেজারগঞ্জে গেছেন, তাঁরা শুঁটকিবেলা কথাটার অর্থ সহজেই বুঝতে পারবেন। অন্যদের সুবিধার্থে বলি, এখানকার তটভূমি বালি নয়, শুঁটকি মাছে পরিপূর্ণ। প্রতি পদক্ষেপে সেই শুকনো মাছের সোহাগস্পর্শ, লবণাক্ত বাতাসে তাহাদের সুঘ্রাণ, তার আকর্ষণে রাশি রাশি বায়স পক্ষীর কুজন-কাকলি… আহা কি শোভা! অনেক খুঁজে সেই প্রাসাদটি যে কোন দিকে তা ঠাহর করতে না পেরে যখন ফিরে আসছি, হঠাৎ শুনতে পেলাম, “দেকোচ আমাদের পেঁপে গাচে কেমন নাউ হয়েছে”। তাকিয়ে দেখি, আমাদের অজান্তেই কখন জানি না, এক দিগম্বর গাইড জুটে গিয়েছেন। এবং তিনি তাঁর ছোট ছোট হাত তুলে দেখাচ্ছেন, ফ্রেজারগঞ্জের অবশ্য দ্রষ্টব্য পেঁপে গাছ, যার শরীর বেয়ে উঠে গেছে এক ফলন্ত লাউ গাছ। দেখে আমরা যত না আনন্দ পেলাম, তার দ্বিগুন আনন্দ পেলেন আমাদের গাইড। আনন্দের চোটে তিনি আমাদের পিছু নিলেন। ঘুরে ঘুরে দেখাতে লাগলেন তাঁদের গ্রাম। তাঁদের সমুদ্র।
ফ্রেজারগঞ্জের মূল আকর্ষণ হল, সাত কিলোমিটার বিস্তৃত রুপোলি সৈকত। এখান থেকে গঙ্গাবক্ষে সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য উপভোগের মজাটাই অন্যরকমের। পরিযায়ী পাখি দেখার, তাদের সঙ্গে কথা বলার আদর্শ জায়গা ফ্রেজারগঞ্জ। সামুদ্রিক ঈগল থেকে কালচে মাথার মাছরাঙা ছাড়াও নানা রং-এর পাখিদের ভীড়।
 
ফ্রেজারগঞ্জের সমুদ্রটি গৃহপালিত বিশেষ। গ্রামের বাড়িতে যেমন খিড়কির পুকুর থাকে, এটি তেমনি খিড়কির সমুদ্র। শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘরের পাশ কাটিয়ে চলতে চলতে হঠাৎ সামনে সমুদ্র। গ্রামের লোক সেখানেই নিত্যকর্ম সারেন, পোষা হাঁসগুলো সেখানেই সাঁতার কাটে। সত্যি কথা বলতে কি, পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে না দেখে, মৎসজীবীদের গ্রাম হিসাবে দেখলে ফ্রেজারগঞ্জকে নেহাত মন্দ লাগবে না। দড়িতে ঝোলানো শুঁটকি মাছগুলোকেও বেশ ভাল লাগবে, যখন দেখবেন তার লোভে আকাশে পাক খাচ্ছে খান কয়েক শঙ্খচিল। গ্রামের গঙ্গা মন্দিরটিও ভাল লাগবে। গঙ্গা মন্দিরের সামনে থেকে সমুদ্রের দিকে তাকালে চক্রবাল রেখার গায়ে মেঘের মতো একটা ছায়া দেখা গেল। গাইডবাবু বললেন, “ওটা জম্বুদ্বীপ(Jambudwip)। ওখানে যেউনি, খুব ঢেউ”।
গঙ্গা মন্দিরের কাছে দাঁড়ালে আরও দেখা যায় চওড়া একটা খাঁড়ি স্থলপথের ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলারগুলো এই ফাঁড়ি দিয়েই সার বেঁধে ফ্রেজারগঞ্জের ফিশিং হারবারে পৌঁছয়। শুনেছি সে এক দারুন দৃশ্য। কিন্তু একটাও ট্রলার দেখতে পাচ্ছি না কেন? আমাদের বোধহয় দেরি হয়ে গেছে। মন্দিরের চাতালের ওপরে উঠে দেখার চেষ্টা করছি, এমন সময় দূর থেকে শুভজিতের গলা শোনা গেল, “এই তোরা শিগগির আয়। জেটি থেকে মাছ কিনব। আজ মাছভাজা দিয়ে….”। এইসব ব্যাপারে ওরা সাধারণত আমাকে ডাকে না। কিন্তু আজ ডাকার কারণ আছে, টাকার থলি আছে যে আমার কাছে। কিন্তু জেটিতে গিয়ে দেখি সেখানেও সব ঢুঁ ঢুঁ। একটাও ট্রলার নেই। আছে শুধু কটা ভুটভুটি। তারই একটার মাঝির সঙ্গে খোশগল্প জুড়েছে শাম্ব। ভোরের হাওয়ায় শাম্বর মধ্যে বেশ কবি কবি ভাব এসেছে। সে মাঝিদের বলছে, “আপনারা তো জীবন হাতে নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যান”। মাঝিও বেশ বাকপটু। মনে হয় কলকাতার লোকদের এই সব গায়েপড়া কথা শোনা তাঁর অভ্যাস আছে। তিনি বললেন, “আপনারাও তো জীবন হাতে নিয়ে কলকাতার রাস্তায় গাড়ি চালান”। পৃথিবীতে সপ্তম রিপু বলে যদি কিছু থাকে তবে তা হল ‘গ্যাস খাওয়া’। কিছুক্ষণ উভয়ে উভয়ের প্রশনশায় পঞ্চমুখ হওয়ার পর, শাম্বর মধ্যে সেই সপ্তম রিপুর প্রভাব দেখা দিল। সে বলল, “গাড়ি চালান আনার বাঁ হাতের খেল। আমি তো কলকাতা থেকে মদ খেতে খেতে এতো দূর গাড়িচালিয়ে এসেছি। চাইলে আমি নৌকাও চালাতে পারি”। মাঝি মহাশয় বোধহয় এরই অপেক্ষাতেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “তবে তো আপনাকে নিয়ে জম্বুদ্বীপে যেতেই হবে। কলকাতার বেশির ভাগ লোক এমন ভিতু যে যেতেই চায় না। এই গোবিন্দ নৌকা লাগা, এতদিনে একটা সাহসী বাবুর পেয়েছি”।
নৌকা জেটিতে লাগতেই শাম্ব এবং তার দেখাদেখি অন্যরা লাফিয়ে লাফিয়ে নৌকায় উঠে পড়ল। বললাম, “শাম্ব ওই বাচ্চাটা বলছিল জম্বূ দ্বীপে খুব ঢেউ”।“আরে, তুমি চিরকাল ওই বাচ্চাদের কথাতেই নাচ। এবার পুরুষ হও বুঝেছ, পুরুষ”। আমার আঁতে ঘা লাগল। গ্যাস খাওয়াটা সপ্তম রিপু হলে, ‘আঁতে ঘা লাগা’ অষ্টম রিপু। সেই রিপুর কবলে পড়ে আমিও এক লাফে নৌকায় উঠে পড়লাম। নৌকা জেটি ছেড়ে কিছু দূর এগোতেই শাম্ব উঠে দাঁড়িয়ে হে-হে-হে- বলে চিৎকার করে উঠল। “শাম্ব দাঁড়িয়ে থাকিস না, জলে পড়ে যাবি”।“গেলে যাব। ফ্রেজারও তো ডুবে গেছিল। কত মেয়ে আমাকে উদ্ধার করার জন্য মুখিয়ে আছে। তুমি খালি তাঁদের মধ্যে একটাকে বাছাই করে দেবে”। গোবিন্দ নামের সেই ছোকরাটি ফিসফিসিয়ে বলল, “আপনি চুপ মেরে বসে থাকেন। এখখুনি দ্যাখেন নিজে থেকেই বসে পড়বে”। বলতে বলতেই হঠাৎ গাড়ির ব্রেক কষার মতো একটা প্রবল ঝাঁকুনি। নৌকা যেন পাগলা ঘোড়ার মতো লাফিয়ে উঠল এবং লাফের পর লাফ দিতেই থাকল। “কি হল রে গোবিন্দ”? এজ্ঞে নদী ছেড়ে সাগরে এসে পড়িচি”। 
ওদিকে গোবিন্দর কথা সত্যি প্রমান করে, সব কটা বীরপুরুষ ধপধপ করে বসে পড়েছে। শুধু বসে পড়াই নয়, পশ্চাতদেশ ঘষতে ঘষতে একেবারে ছাউনির ভিতরে গিয়ে সেঁধিয়েছে। আমার মন বলছে, সেখানে ঢুকে চোখ বন্ধ করে থাকি। বিপদকে দেখতে না পেলে বিপদের ভয় একটু হলেও কমে। বাস রে সে কি দুলুনি! সে কি ঢেউ! নৌকার ডানদিকে ঢেউয়ের ঝাপ্টা লেগে বাঁদিকে জল ছিটকে যাচ্ছে। জীবনে এমন ভয় খুব কমই পেয়েছি। প্রাণপণে একটা তক্তা ধরে বসে আছি। ফ্রেজারগঞ্জ কতটা পিছনে সেটা দেখার জন্য ঘাড় ঘোরাতেও ভয় করছে।
“সোমক সাঁতার জানিস”? আমি সাইকেল চালাতে জানিনা। কিন্তু দু’বার গঙ্গা এরার ওপার করেছি। দু’বারই দশহরার  দিন”। “সাঁতার জেনে লাভ হবেনি বাবু, জলে কামট আছে”। এই কথা শুনে কিনা জানিনা, ছাউনির ভেতর থেকে একটা চাপা গুঁ গুঁ শব্দ ভেসে এল। কোনও এক বীরপুরুষ কাঁদছে। কাঁদতে কাঁদতে, কাঁপতে কাঁপতে জম্বুদ্বীপে যখন নৌকা পৌঁছল, তখন হড়হড় করে সবকটা একসঙ্গে বমি করে ভাসিয়ে দিল। বোধহয় ভয়ের চোটে এতক্ষণ চাপা ছিল। নৌকার মধ্যে তখন একেবারে মাখামাখি অবস্থা। কিন্তু নৌকার বাইরে প্রকৃতি আমার সামনে সে কি রূপ মেলে ধরল! সে কী আদিমতা! যে রূপকে লোলুপ পর্যটকরা এতটুকুও বিক্ষত করতে পারেনি। দ্বীপে জনপ্রাণী নেই। নির্জনতায় চারিদিক থমথম করছে। শুধু প্রথম ঋতুরক্তের মতো চাপচাপ লাল কাঁকড়া ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর অঞ্চলে। অগণ্য। একটানা সেদিকে তাকিয়ে থাকলে নেশায় ধরে, মাধবীর নেশা। সে নেশায় উন্মাদ কামুক সমুদ্র মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ছে জম্বুদ্বীপের শরীরে। দ্বীপে একটা জেটি পর্যন্ত নেই। লাফ দিয়ে নামতে হয় কাদা জলে। সেদিন সেই কাদা জলে খর টান। তবুও মনে হল নামতে আমাকে হবেই। এই রূপকে স্পর্শ করতে হবে প্রতি অঙ্গ দিয়ে। ঠিক তখনই মাঝি বললেন, “নীচে নামবেন না বাবু। সমুদ্রের অবস্থা ভালো নয়। হ্যাঁ বাবু, দেখেন নি আজ কেউ মাছ পর্যন্ত যায়নি”। খুব অবাক হয়ে মাঝির দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, এতই যখন দয়া তাহলে সমুদ্রের অবস্থা জেনেশুনেও জম্বুদ্বীপে আমাদের নিয়ে এলে কেন? কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারতে ইচ্ছা করছিল। এরপরেও সরল মানুষের জন্য ক্ষমাসুন্দর হয়ে শুধু হাসলাম।
নৌকা যখন ফ্রেজারগঞ্জে পৌঁছল, তখন তাদের নেশা কিছুটা কমলেও ভয়ের চোটে অর্ধেক প্রাণ বেরিয়ে গেছে। সেই হাফ মাতাল, হাফ মৃত প্রাণীগুলোকে টানতে টানতে যখন নৌকা থেকে নামাচ্ছি, মাঝি হঠাৎ চিৎকার করে কাকে ডাকল, “নারায়ণী, এ নারায়ণী”। মনে পড়ে গেল, ফ্রেজার সাহেবের রক্ষাকর্ত্তী সেই মেয়েটির নাম ছিল নারায়ণী। ফ্রেজারগঞ্জের আসল নাম নারায়ণীতলা। বললাম, “শাম্ব, এখানে এখনও একটা নারায়ণী আছে। কিন্তু একথা জানার আগেই তোর ফ্রেজার সাহেব হওয়ার সাধ আর একটু হলেই আজ মিটে যেত”।
একথা শুনে শাম্ব লজ্জা পেয়ে বলল, “দাদা, খুব শিক্ষা হয়েছে। জীবনে আর কখনও এমন বাড়াবাড়ি করব না”। 
কীভাবে যাবেনঃ আমরা গাড়ি ভাড়া করে গিয়েছিলাম। এখন চাইলেই গাড়ি পাওয়া যায়। তাই আপনিও গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসুন। কলকাতা(Kolkata) থেকে মাত্র ১৩২ কিলোমিটার দূরত্ব। এছাড়া শিয়ালদা(Sealdah) থাকে নামখানা(Namkhana) লোকালে  নামখানা নামুন। এরপর বাস অথবা লঞ্চে নদী পেরিয়ে বকখালি(Bakkhali) হয়ে যেতে পারেন। অথবা ধর্মতলা(Dharmatala) থেকে বকখালি অজস্র বাস পাবেন।
কোথায় থাকবেনঃ এখন প্রচুর হোটেল হয়ে গেছে। তবে ফ্রেজারগঞ্জের বেনফিশের(Benfish) গেস্ট হাউসে থাকতে পারেন। অথবা ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজিম-(West Bengal Tourism)এর বাংলোতেও আগে থেকে বুক করে গিয়ে উঠতে পারেন।  জায়গা নিয়ে চিন্তা করবেন না। বকখালির মতো এখানে ভীর নেই। তাই নির্জনতার আর এক নাম ফ্রেজারগঞ্জ। নির্জনতা যাঁরা ভালবাসেন, তাঁদের জন্যই শুধু ফ্রেজারগঞ্জ। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here