Daringbadi: ‘দারিংবাড়ি’ ওড়িশার কাশ্মীর

0
48

পুরী যে ওড়িশায় তা একজন শিশুও জানে। কিন্তু দারিংবাড়ি জায়গাটা কোথায়? এককথায় উত্তরঃ কেন ওই ওড়িশাতেই। অসহ্য গরমেও একটা হিমশীতল জায়গা।আব্র শীতেও অসাধারণ। ঠান্ডা জায়গার সৌন্দর্য শীতের সময়েই উপভোগ করার মজাই আলাদা। দারিংবাড়ি এতটাই ঠান্ডা জায়গা যে ওড়িশার কাশ্মীর বলা হয়। যাবেন নাকি? লিখছেন পাহাড়ী সেন।

আমরা কতগুলো অদ্ভূত ধারণা নিয়ে বসে আছি। আমাদের কাছে বৃষ্টি মানে চেরাপুঞ্জি। রাজস্থান মানেই মরুভূমি। যা থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারি না। কী জানি, হয়ত, বেরিয়ে আসতে চাইও না। ওড়িশার মানে কী বুঝি? ভ্রমণ রসিক গড়পড়তা বাঙ্গালির কাছে ওড়িশা মানেই পুরী। আর পুরী মানেই জগ্ননাথ দেবের মন্দির, সমুদ্র। বড়জোর আশপাশের দু’একটা মন্দির, চিড়িয়াখানা। আমিও এরকম একটা ভ্রান্ত ধারণার শিকার ছিলাম। এখন বুঝি, ওড়িশা মানে ওনেক কিছু। 

পাশে থাকা এই রাজ্যটিকে আমরা চেনার চেষ্টাই করলাম না। এই কারণেই বোধহয় রবি ঠাকুর লিখেছিলেন, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দু’পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শিষের ওপরে/ একটি শিশির বিন্দু। ভাবসম্প্রসারণে লিখতাম, শশিরবিন্দু কথাটাকে  আক্ষরিক ধরলে মস্ত বড় ফাঁক থেকে যাবে। আশেপাশে এমন অনেক কিছুই উপেক্ষিত শিশিরবিন্দু হয়ে রয়ে গেছে। 

তেমনই একটা জায়গা হল দারিংবাড়ি। ওড়িশার মধ্যে একখণ্ড কাশ্মীর আছে তা আমরা ক’জন জানি? অকপটে স্বীকার করছি, আমি অন্ততঃ জানতাম না। 

এই দারিংবাড়িকে নাকি ওড়িশার কাশ্মীর বলা হয়। শুরুতে মনে হয়েছিল, বাড়াবাড়ি। কথায় কথায় একটা তুলনা জুড়ে দেওয়া আম্যাদের স্বভাব। ইন্টারনেট ঘেঁটে কিছু ছবি দেখলাম। বেশ ভালই লাগল। বাড়িতে আমাকে দার্জিলিং যাবার কথা বলেছিল। দার্জিলিং তো আগেও গেছি, আবার যাব। তার বদলে কাছাকাছি কাশ্মীর গেলে কেমন হয়? 

নির্ঘাত আমাকে অনেকেই পাগল ভাবছিল। সেটাই স্বাভাবিক। আমি বললাম, ‘অতদূরে নয়, কাছেই ওড়িশার ভেতর একটা কাশ্মীর আছে’। তখন তো নির্ঘাৎ সবাই আমাকে আমাকে বদ্ধ পাগল ভাবছিল। না, ফিরে আসার পর কেউ আমাকে গালমন্দ করেনি। বরং নতুন একটা জায়গায় সবাইকে জোর করে নিয়ে গিয়েছিলাম বলে সবাই বেশ খুশিই হয়েছিল।

কাছাকাছি স্টেশন বলতে বেরহামপুর। সেখানে নেমে গাড়িতে ঘন্টা তিনেকের পথ। ভাড়া দরদস্তুর করে যাওয়াই ভাল। পুরো পথটা যে পাহাড়ী, তা নয়। বেশিরভাগটাই সমতল। কিন্তু যেখান থেকে পাহাড়ে উঠছে, সেখান থেকেই যেন রোমাঞ্চ। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কত রহস্য। দার্জিলিং যাবার পথে দেখেছি অনেক চায়ের বাগান। এখানে চোখে পড়বে কফির বাগান। কখনও সবুজ উপত্যকা। আবার কখনও পেরিয়ে যাচ্ছি ঘন পাইন বন, আবার কখনও ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। এখানে মেঘ গাভীর মত চরে। এভাবেই পৌঁছে গেলাম দারিংবাড়ি। 

থাকার বুকিং আগে থেকেই করা ছিল। ওটিডিসি’র বাংলোটা বেশ ভালো। তবে খরচ একটু বেশি। আগে থেকে বুকিং পেলে এখানে থাকাই ভালো। শুনেছি ফরেস্টের একটা বাংলো আছে। সেটাও নাকি সুন্দর। আছে ইকো হোম। আশেপাশে যাওয়ার জায়গা অনেক আছে। একদিন একটা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লেই হল। 

পাবেন দুলুরি নদী, পুতুদি জলপ্রপাত। দেখতে পাবেন গোলমরিচ বাগান। আর দিগন্ত জুড়ে কফি বাগান তো আছেই। যদি কোথাও যেতে না চান, তাও চলবে। আশেপাশের এলাকাটা হেঁটে ঘুরে বেড়ান।নিস্তব্ধতা পাবেন। সবমিলিয়ে কমপ্লিট প্যাকেজ বলতে যা বোঝায় তাই পাবেন। শোনা যায় শীতে নাকি এখানে বরফ পড়ে। আমার অবশ্য শীতে যাওয়ার সুযোগ ঘটেনি। তবে যখনই যান, শীতবস্ত্র নিয়ে যেতে ভুলবেন না। 

শোনা যায়, জন্তু জানোয়ারও নাকি আছে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একসময় মাওবাদী আতঙ্ক ছিল। এখনও আতঙ্ক পুরোপুরি কেটেছে এমন নয়। তবে ভরসা করে যেতেই পারেন। শীতে কোথায় যাবেন, এখনও ঠিক করেন নি। তাহলে ঘুরেই আসুন দারিংবাড়ি। বিশ্বাস করুন ভাল লাগবে।

হাতের কাছে এমন এক কাশ্মীর থাকতে একবার উঁকি মেরে দেখে আসবেন না?