ছোট বেলায় আমি একটি ঝর্নার গল্প শুনেছিলাম। সেই ঝর্নায় যে গোসল করে সে নাকি ফর্সা হয়ে যায়। একদম পরীদের মতো। খুব ইচ্ছে ছিল আমার সেই ঝর্নায় ডুব দিয়ে পরী হয়ে যাব।
 
বাস্তবে এমন ঝর্না কিন্তু আছে। কি বিশ্বাস হলো না? আরে বাবা সত্যি ই আছে। “ফাটাছড়ির ঝর্না” (pangthumai waterfalls, locally called as fatachori waterfall)।
 
হ্যাঁ, আমার মতে সিলেট (sylhet) জেলার পানতুমাই গ্রামের (pangthumai village on the border of Bangladesh & India) এই ফাটাছড়ি (fatachori waterfall) নামক সেই ঝর্না। সিলেট জেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম পানতুমাই (pangthumai), ভারত সীমান্তে মেঘালয় (meghalaya) পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। পানতুমাই গ্রামকে বলা হয় বাংলাদেশ এর সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম (pangthumai, the most beautiful village of Bangladesh)। 

এটি জাফলং থেকে প্রায় ২০-২৫ কিমি দূরে। যদিও অনেকে একে “পাংথুমাই” বলে, কিন্তু এর সঠিক উচ্চারণ ‘পানতুমাই’ (pangthumai)। বাংলাদেশের কোল ঘেঁষে প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহীন অরণ্যের কোলে বাংলাদেশ পানে নেমেছে অপরূপ এক ঝরনাধারা। ঝরনাটির স্থানীয় নাম ফাটাছড়ির ঝরনা (fatachori); কেউ কেউ একে ডাকেন বড়হিল (barahill) ঝরনা বলে। ঝরনাটি ভারতের মধ্যে পড়লেও পিয়াইন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুব কাছ থেকে দেখা যায়।
 
পাহাড়ে ঘেরা এই পানতুমাই (pangthumai) গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তা, দুপাশের সবুজ পাহাড় আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে। গ্রামের শেষে পাহাড়ি গুহা থেকে নেমে এসেছে এই বিশাল জলরাশি। মনে হবে যেন প্রকৃতির বুক চিরে এক ঝাঁক অপ্সরী সাদা গাউন পড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। যেন মনে হবে কোনো এক অজানা মোহমায়া টানছে, ডাকছে ছুটে যেতে। 

কেউ যেন চিৎকার করে বলছে, “দেখো আমাকে দেখো, চোখ ফিরিও না”। একটা পলক ফেলতে যে সময়টা অন্ধকার হয়, চোখের সামনে সেই সময়টাই যেনো এই অপরুপ দৃশ্য দেখা থেকে বঞ্চিত হলাম। পা ভিজিয়ে দেখতে মন চাইবে ঠাণ্ডা জলে। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য দু হাত ভরে দিয়েছে এই পানতুমাই গ্রামকে (pangthumai)। 
 
পাহাড়ে নাকি সমুদ্রে যাবেন… আমি যদি কাউকে ভ্রমণের জায়গা পছন্দের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি তাহলে বলি, পাহাড় পছন্দ নাকি সমুদ্র। কিন্তু এই পানতুমাই (pangthumai) গ্রাম, মেঘালয় পাহাড় আর ফাটাছড়ির ঝর্না (fatachori waterfall) মিলে সে প্রশ্ন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলে দিয়েছে আমি পাহাড় আর জলরাশি একসাথে ধারণ করেছি।
 
ফাটাছড়ি নামক এই ঝর্নাটি বাংলাদেশ সীমান্তের বাইরে ভারতের মধ্যে পড়ে তবে বাংলাদেশ থেকেও এর সৌন্দর্য খুব ভাল ভাবেই উপভোগ করা যায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামের শোভা যেন বহু গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে এই ঝর্ণা।

আমার কি মনে হয় জানেন? এই ঝর্নাতে রোজ পূর্ণিমায় পরীরা স্নানে আসে, পাড়ে বসে পানিতে পা দোলায়, গল্প করে, খিল খিল করে হাসে। স্নান শেষে শত শত মুক্তো ছড়িয়ে দিয়ে যায় এই জলে, এজন্য তো রোদ পড়লেই ঝলমল করে ওঠে জল। মনে হয় হাজারো মুক্তো ছড়িয়ে আছে একটা প্রকাণ্ড মাঠে। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
 
একটা ঝর্না ঘিরে কতো শত কল্পনা জুড়ে দিয়েছি আমি। আচ্ছা আপনার ইচ্ছে হচ্ছে না একবার ঘুরে যেতে এই পানতুমাই গ্রামে (pangthumai village)? পরীদের স্নান করা জল দেখতে? মানুষের হাজারো রকমের স্বপ্ন থাকে, কল্পনা থাকে, কিন্তু ভ্রমন পিপাসুদের থাকে লোভ। দুনিয়া ঘুরে দেখার লোভ। সবচেয়ে সুন্দর জায়গা গুলো খুঁজে বের করে তাতে একবার ঢু মেরে আসার লোভ। এটা একটা নেশার মতো কোনো জায়গা না দেখে ছেড়ে দিতে মন চায় না।
সাদিকা সুলতানা
সাদিকা পেশায় কৃষিবিজ্ঞানের স্নাতক স্তরের ছাত্রী। গোপালগঞ্জের নিবাসী সাদিকা বাংলাদেশ বিষয়ক লেখালিখির ব্যাপারে আমাদের অন্যতম বিশেষজ্ঞ। নিজের দেশের প্রতি সাদিকার গভীর ভালোবাসা তার প্রতিটা লেখায় বারবার ফুটে ওঠে। ওর লেখাপড়ার বিষয়টি মাটির খুব কাছাকাছি হওয়ায় সাদিকার সাথে গ্রামবাংলার পরিচয় গভীর, আর লেখায় মাটির টান। উনি অবসর সময়ে ঘুরতে আর লেখালিখি করতে ভালোবাসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here